যুক্তরাষ্ট্রে হুন্ডাই কারখানায় অভিযান চালিয়ে ৪৭৫ জন অভিবাসী শ্রমিককে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বৃহস্পতিবার জর্জিয়ার ব্রায়ান কাউন্টিতে পরিচালিত এ তল্লাশি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় ফেরার পর এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় কর্মস্থল অভিযান হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনসের (HSI) আটলান্টা কার্যালয়ের বিশেষ এজেন্ট স্টিভেন শ্র্যাঙ্ক শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের অধিকাংশই দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিক। কেউ অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করেছেন, আবার কেউ ভিসার মেয়াদ শেষে থেকেছেন বা অনুমতি ছাড়াই কাজ করছিলেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে হুন্ডাই কারখানায় অভিযান কেবল অভিবাসনবিষয়ক পদক্ষেপ নয়, বরং কয়েক মাসের তদন্ত, সাক্ষাৎকার ও নথি বিশ্লেষণের পর আদালতের অনুমতিতে পরিচালিত হয়েছে।
এই অভিযান যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে চলমান বাণিজ্যিক সম্পর্কের টানাপোড়েনের সময় সংঘটিত হলো। গত আগস্টে দুই দেশের প্রেসিডেন্ট বৈঠক করেন, যেখানে বিনিয়োগ ও শুল্ক নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকের পর হুন্ডাই যুক্তরাষ্ট্রে ২৬ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দেয়। তবে অভিযানের পর দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্ক করে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে হুন্ডাই কারখানায় অভিযান তাদের নাগরিকদের অধিকার ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করতে পারে।
ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে বড় আকারের কর্মস্থল অভিযানে শতাধিক শ্রমিক গ্রেপ্তার হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ছোট ব্যবসা বা সেবামূলক খাতেই বেশি অভিযান চালানো হয়। এবার আবারও ব্যাপক আকারে যুক্তরাষ্ট্রে হুন্ডাই কারখানায় অভিযান পরিচালনা করলো কর্তৃপক্ষ। অতীতে টেক্সাস, মিসিসিপি, নেব্রাস্কা ও ক্যালিফোর্নিয়ার কারখানায় এ ধরনের অভিযান হয়েছিল।
হুন্ডাইয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া শ্রমিকরা সরাসরি কোম্পানির কর্মচারী নন; তারা বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অধীনে কাজ করছিলেন। কোম্পানি দাবি করেছে, তারা সবসময় আইন মেনে চলে এবং কর্মীদের নিরাপত্তা ও কল্যাণকে অগ্রাধিকার দেয়।
অভিযানে শ্রম মন্ত্রণালয়, এফবিআই ও ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশনসহ একাধিক সংস্থা অংশ নেয়। হোমল্যান্ড সিকিউরিটির ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে হুন্ডাই কারখানায় অভিযান ছিল অবৈধ নিয়োগ এবং গুরুতর অপরাধ তদন্তের অংশ। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভবিষ্যতেও এ ধরনের বৃহৎ কর্মস্থল অভিযান অব্যাহত থাকতে পারে।
উল্লেখ্য, হুন্ডাই ও এলজি এনার্জি সলিউশনের যৌথ উদ্যোগে জর্জিয়ায় গড়ে তোলা হচ্ছে একটি বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাটারি কারখানা, যা অঙ্গরাজ্যের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ প্রকল্প হিসেবে ধরা হচ্ছে। তবে ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রে হুন্ডাইয়ের এক সহযোগী প্রতিষ্ঠান আলাবামায় শিশু শ্রমিক নিয়োগের অভিযোগে জরিমানা গুনেছিল। যুক্তরাষ্ট্রে হুন্ডাই কারখানায় অভিযান কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন করে প্রভাব ফেলবে কিনা তা সময় বলবে।


